অর্থনৈতিক ও কমোডিটি বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও মার্কেট এনালিস্ট)
ঢাকা, ৬ এপ্রিল ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘প্রস্তর যুগ’ আলটিমেটাম আর তেলের বাজারে আগুনের হলকার মাঝেও বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারে এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি নামল। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২,১৫৮ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকায়। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও দেশীয় মুদ্রার মান ও চাহিদার সমন্বয়ে বাজুস এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে।
১৯৭৪ সালে যখন কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করেছিলেন, তখন আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা স্বর্ণের মজুদ ছিল যৎসামান্য।
ঐতিহাসিক তুলনা: আজ ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ভরি হওয়া সত্ত্বেও এ দেশের মানুষ স্বর্ণ কিনছে এবং এটি একটি শক্তিশালী ‘সম্পদ’ (Asset) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আমরা ‘এক পা এক পা’ করে কতখানি এগিয়েছি, তার প্রমাণ হলো—এক সময় যে সোনার ভরি ছিল কয়েকশো টাকা, আজ তা আড়াই লাখের কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও আমাদের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েনি। এটি আমাদের জাতির টিকে থাকার এক অদ্ভুত ক্ষমতার প্রতিফলন।
সাধারণত দেখা যায়, তেলের দাম বাড়লে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মানুষ স্বর্ণ কেনে এবং তাতে স্বর্ণের দাম বাড়ে।
বিশ্লেষণ: কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়ানোর পরও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, হয়তো স্থানীয় বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে অথবা ডলারের বিপরীতে টাকার মানে সাময়িক কোনো স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। এটি অনেকটা ১৯৭১-এর সেই কৌশলগত পিছু হটার মতো—যেখানে বড় অর্জনের জন্য সাময়িকভাবে এক পা পিছিয়ে যাওয়া হয়।
বাংলাদেশে স্বর্ণ কেবল অলঙ্কার নয়, এটি সামাজিক নিরাপত্তা ও ঐতিহ্যের প্রতীক।
সামাজিক প্রেক্ষাপট: কয়েক প্রজন্ম আগে যেখানে বিয়েতে স্বর্ণ দেওয়া ছিল সাধারণ বিষয়, আজ তা মধ্যবিত্তের জন্য ‘সোনার হরিণ’। ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১ হাজার ১৪৬ টাকা হওয়া সত্ত্বেও এই ২ হাজার টাকার ছাড়টি অনেক সাধারণ পরিবারের জন্য বিয়ের কেনাকাটায় সামান্য স্বস্তি দেবে। আমরা অতিথিপরায়ণ বা শান্তিকামী হতে না পারলেও, উৎসবে আভিজাত্য রক্ষায় এখনো আপসহীন।
আজকের এই দাম কমানোর খবরটি কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।
বৈশ্বিক প্রভাব: ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটাম যদি আগামীকাল (মঙ্গলবার) সত্যি কোনো বড় সংঘাতের রূপ নেয়, তবে স্বর্ণের দাম আবারও আকাশচুম্বী হতে পারে। যুদ্ধের ডামাডোলে মানুষ সবসময় ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনা এবং ডলারের ওপর নির্ভর করে। ২০২৬ সালের এই সংকটে প্রতিটি গ্রাম স্বর্ণ এখন এক একটি ঢাল।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: ২,১৫৮ টাকা কমানো মানে এই নয় যে স্বর্ণ সস্তা হয়ে গেছে। ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ভরি এখনো আমাদের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তবে এই কমানোটা একটি ‘মার্কেট কারেকশন’ হতে পারে। আমাদের গর্ব করার মতো হয়তো অনেক কিছু নেই, কিন্তু বৈশ্বিক এই মহাপ্রলয়ের মাঝেও আমাদের বাজার ব্যবস্থা যেভাবে টিকে আছে এবং দাম কমানোর সাহস দেখাচ্ছে, তা-ই আমাদের লড়াকু অস্তিত্বের প্রমাণ।
| মান/ক্যারেট | নতুন দাম (প্রতি ভরি) | পরিবর্তনের পরিমাণ (হ্রাস) |
| ২২ ক্যারেট | ২,৪৫,৮১৯ টাকা | ২,১৫৮ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ২,৩৪,৬২১ টাকা | ২,১০০ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ২,০১,১৪৬ টাকা | ১,৭৪৯ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৬৩,৮২১ টাকা | ১,৪৫৮ টাকা |
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |